Category Archives: স্মৃতিকথা

জীবনের প্রথম প্রেমপত্র

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

ছবি: নিষাদ

“তোমাকে চেয়েছিলাম যখন অনেক জন্ম আগে

তথাগত তার নিঃসঙ্গতা দিলেন অস্তরাগে

তারই করুণায় ভিখারিনী তুমি হয়েছিলে একা একা

আমিও কাঙাল হলাম আরেক কাঙালের পেতে দেখা

নতজানু হয়ে ছিলাম তখন এখনো যেমন আছি

মাধুকরী হও নয়ন-মোহিনী স্বপ্নের কাছাকাছি।”

৩-৪ বছর আগের কথা। তখন আমার ১৮ বছর বয়েস। কলেজ-সিঁড়ির শেষ ধাপ পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব-যাব করছি। সারা চোখে কৈশোরের স্বপন-অঞ্জন, সারা মনে কৃষ্ণচূড়া রঙ্গের হাজারো স্বপ্নের কোলাহল। তখনি ভোরের সূর্যের মত এক জাক সোনালী রোদ্দুর নিয়ে আমার এই ১৮ বছরের মনোকাশে উদিত হল একটি চঞ্চল কিশোরীর অস্তিত্ব। সেই আলোর মিছিলে ভরে গেল আমার কৈশোরের উঠান। অবচেতনভাবেই বুকের মধ্যে জেগে উঠে এক নতুন নির্জন দ্বীপ – যার নাম ভালোবাসা। যে তীব্র আলোয় আমার জগৎ আলোকিত, তার ঝলকানি তখনো সেই কিশোরীর মন-মন্দিরে লাগেনি। লাগেনি মানে লাগতে দিইনি। ভালোলাগার যন্ত্রণাই বলুন আর সুখই বলুন সব একাই বয়ে বেড়িয়েছি – তাকে কখনো বুঝতে দিইনি। তারপরে যথারীতি একদিন ভারটা অসহ্য হয়ে সিন্দাবাদের ভূতের মত ঘাড়ে বসার উপক্রম করছে দেখে অনন্যোপায় হয়ে ঠিক করলাম তাকে জানব সব। না হলে যে বাকি জীবন আমার “আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যকুল শুধাইল না কেহ” গাইতে গাইতে দিন যাবে। সে না শুধাক দায়টা যখন আমার তখন আমাকেই স্বপ্রনোদীত হয়ে বলতে হবে। লিখে ফেললাম একটা কিশোর হৃদয়ের আবেগ-মথিত চিঠি । কিন্তু সঙ্কোচের উঁচু দেয়ালটা টপকিয়ে তাকে চিঠিটি দেওয়া হয়নি কোনদিন। আমার বুকের নির্জন দ্বীপের নির্জনতার মাঝেই ভীরু পায়রার মতই উড়াউড়ি করেই গেছে তার দিন। Read the rest of this entry

নানা রঙের দিনগুলিঃ নাটক দেখা

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

পৃথিবীতে সব কাজ সবাইকে দিয়ে হয় না। আবার অনেককে দিয়ে কোন কাজই হয় না। আমি হলাম দ্বিতীয় দলে। কোন কিছু গুছিয়ে করতেও পারি না, বলতেও পারি না। তারপরও আমি চেষ্টা করব যারা আমার ব্লগ পড়েন তাদের সাথে আমার জীবনের কিছু মজার ও স্মরণীয় ঘটনা শেয়ার করার জন্য। ঘটনাগুলি আসলেই মজার হলেও হয়ত আমার গুছিয়ে বলতে না পারার কারনে অতটা মজার নাও লাগতে পারে। আমি তাই শুরুতেই আমার অক্ষমতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

শুরু করি স্কুল লাইফের একটা ঘটনা দিয়ে। আমি তখন ক্লাস সিক্স নাকি সেভেনে। ননী স্যার ছিলেন আমদের ক্লাস টিচার। ভীষন মজার মানুষ ছিলেন এই ননী স্যার। ছিলেন ক্রীকেট পাগল। ব্যাটের মত বেতটাকে ধরে ক্রীকেটের শট খেলার মতন করে ছেলেদের মারতেন। আমরা যদি একটু ‘ওহ…!’ করে শব্ধ করতাম তাহলে তিনি হেসে হেসে বলতেন, “মাত্র soft hand এ খেলে একটা single নিলাম, তাতেই এ অবস্থা? চার-ছয় মারা শুরু করলে তখন কী করবি?” Read the rest of this entry

নানা রঙের দিনগুলিঃ রাক্ষসবধ

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

আজ আপনাদের শুনাব এক দস্যি ছেলের গল্প। গল্প না, কল্পলোক থেকে আমদানীকৃত কল্পনাও না- সত্যি কথা। যার ছিল চোখ ভরা কৌতূহল, বুক ভরা অস্তিরতা আর মাথা ভরা কিলবিল কিলবিল করা যতসব রাজ্যের দুষ্টু বুদ্ধি। ‘ভয়’ নামের সহজাত সীমাবদ্ধতা তখনো ভর করতে পারেনি তার ছোট্ট মনটাতে। চারিদিকে যা দেখে তাতেই তার কৌতূহল। আর সে কৌতূহলের দূর্নিবার আকর্ষণের কাছে হার মানত বাকি সব প্রতিবন্ধকতা। স্কুলে যাওয়ার বয়েস হয়নি তখনো তার – সারাদিন দুষ্টুমি আর দস্যিপনার মহড়া দিয়ে কেটে যেত তার সকাল, দুপুর সন্ধ্যে।

একদিন রাতে কী একটা কারনে মায়ের সাথে আভিমান হয় ছেলেটির। অভিমানের কারনটা ঠিক কী তাও বুঝিয়ে বলার মত ক্ষমতা তার ছিল না। কিন্তু রাগ-অভিমান হলে Read the rest of this entry