Category Archives: রাজনীতি

প্রস্তাবিত নারীনীতি ২০১১: আমাদের ধর্মব্যবসায়ীরা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

০৬.০৪.২০১১ তারিখে প্রথম আলোতে প্রকাশিত কার্টুন

বাংলাদেশের মানুষদের নাগরিক-জীবনের ভালো জিনিসের দেখা খুব কমই পাওয়া যায়। তবে আমাদের সৌভাগ্য যে অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা দু’টি যুগান্তকারী নীতিমাল পেয়েছি যেটি সত্যিকার অর্থেই ইতিবাচক। একটি হচ্ছে শিক্ষানীতি (যদি এটি বাস্তবায়ন-সম্ভাবনা বাংলাদেশের মতো গরীব দেশের জন্য কতটুকু বস্তবসম্মত সে প্রশ্ন নিতান্ত অমূলক নয়) আর একটি হচ্ছে প্রস্তাবিত নারীনীতি ২০১১। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এ দু’টি বিষয় নিয়ে কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।  

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যারা নারীনীতি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে গলা ফাটাচ্ছেন তাঁদের অনেকেই এ নারীনীতিটি পড়ে দেখেন নি। টিভি কিছু টক শোতে আলোচকদের আলোচনা শুনে বুঝলান তাঁরা এটি না-পড়েই গলা ফাটাচ্ছেন। যেমন কয়েকদিন আগে একজন মহিলা আইনজীবি অনেক যুক্তি তর্ক দিয়ে বুঝাতে চাইলেন নারীকে কেনো উত্তারাধিকার-সম্পদের সম অধিকার দেওয়া উচিত। অথচ প্রস্তাবিত নারীনীতি ২০১১ এর কোথাও নারীকে পিতা-মাতার সম্পত্তির সমান অংশ দেওয়া কথা নেই। আর ইসলামিক আইন বাস্তবায়ন কমিঠির একজন সদস্যও নারীনীতি ঠিক কোন ধারাটি ইসলাম-বিরোধী সেটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারলেন না। অনেক টক শো শোনে এবং পত্র-পত্রিকা পড়ে যেটুকু বুঝলাম তাতে মনে হলো নীতিমালা নির্দিষ্ট করে দুটি ধারাকে ইসলাম-বিরোধী বলে বিরোধিতা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাল থেকে প্রস্তাবিত নারীনীতি নামিয়ে পুরোটা পড়লাম। বিশেষ করে যে ধারা দুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সে দুটি। ধারা দুটি হচ্ছে ২৩.৫ এবং ২৫.৩। ধারা দুটি পড়ে এর মধ্যে ইসলাম-বিরোধী কিছুই খুঁজে পেলাম না। আসুন পাঠকবৃন্দ দেখি এতে ইসলাম-বিরোধী কিছু আছে কিনা।

২৩.৫ ধারায় বলা হচ্ছে

‘‘জাতীয় অর্থনীতির সকল কর্মকান্ডে নারীর সক্রিয় ও সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ ও সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশিদারিত্ব দেয়া।’’ Read the rest of this entry

যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার : খোলনলচে থেকে বেরিয়ে আসছে বিএনপি

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

অনেক সংশয়, অনেক অনিশ্চিয়তার পর অবশেষে বাঙালির বহুদিনের আরদ্ধ দাবি যুদ্ধাপরাধের বিচার এর আইনগত পক্রিয়া অবেশেষে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অঙ্গীকার করে ভুলে যাওয়ার সংষ্কৃতি, সংশ্লিষ্টদের পরষ্পরবিরোধী কথাবার্তা এবং আজ–কাল করে করে শুরুর সময়টাকে ক্রমাগত পিছিয়ে দেওয়ার কারণে এ বিচার আদৌও হবে কিনা এটি নিয়েই জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধাতে শুরু করেছিল। অবশেষে সব সন্দেহের মেঘ দূর করে বিচারপক্রিয়া শুরু করায় সরকারকে অভিনন্দন। এখন এ বিচারের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার গুরুভার তাঁদের উপর। বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জনগনের বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের সমর্থন সরকারের জন্য অপরিহার্য। নতুন প্রজন্মের এ কথাটি ভাবার কোন অবকাশ নেই যে “যুদ্ধাপরাধের মতো একটি পুরানো বিষয়কে টানা-হেঁচড়া করে কী লাভ? তার চেয়ে সবাই মিলে দেশকে গড়ার কাজ করলেই তো ভালো”। অতীতের কালিমাকে ললাটে ধারণ করে আলোকিত ভবিষ্যৎ কখনোই গড়ে তোলা যায় না। যুদ্ধাপরাদের কলঙ্কের বোঝা বড্ডো ভারী। এ ভারী বোঝা নিয়ে একটি নবীন জাতি কখনো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না – বারবার হোঁচট খাবে। তাছাড়া জাতি হিসাবে নিজেদেরকে সভ্য হিসাবে প্রমাণ করতে গেলে আমাদের উপর একটা নৈতিক বাধ্যবাধকতা আছে এ সকল গণহত্যার বিচার করার। যুদ্ধাপরাধ কখনো তামাদি হয় না। যুদ্ধাপরাধদের বিচারের বিষয়ে প্রধানবিরোধী দল বি এন পি শুরু থেকে কৌশলী অবস্থা নেয়। দলের সাধারণ সম্পাদকে থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা বার বার বলে যান ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরাও চাই। কিন্তু বিচারের নামে রাজনৈতিকভাবে কাউকে হয়রানি করা যাবে না।’ ১৯ মে পল্টন ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও একই কথার পুরাবৃত্তি করে বলেছিলেন, ‘বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধী নয়। তবে সেই বিচারের নামে কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হলে তাঁরা মেনে নেবেন না।’

Read the rest of this entry