Monthly Archives: এপ্রিল 2011

ইন্টারনেট নাকি আন্তর্জাল?

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

রবীন্দ্রনাথ বলতেন “বাংলায় পরিভাষার স্থির নাই, অতএব পরিভাষার প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা কর্তব্য, কিন্তু বিবাদ করা অসঙ্গত”। রবীন্দ্রনাথ বিবাদের কথা কেনো এনেছেন সেটি সহজেই অনুমেয়: তিনি যখন Institution এর বাংলা করলেন “প্রতিষ্ঠান” এবং “Compulsory” এর বাংলা করলেন “আবশ্যিক” তখন উনাকে কম বিরোধীতার সম্মূখীন হতে হয় নি। বিভিন্ন বিদেশি ভাষার শব্দের যথার্থ প্রতিশব্দ ঠিক করতে আমাদের মজ্জাগত হীনমন্যতাবোধ সবসময় বাঁধা দেয়। এর দৌরাত্ম্যেই অনেক সময় প্রতিশব্দ ঠিক করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটা বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা পরিভাষা নিয়ে আলোচনা না করে বিবাদ শুরু করে দিই। আর আলোচনা করলেও সে আলোচনার ধারাটা সবসময় ভুল পথ ধরেই এগিয়ে গিয়ে কিছু পরে পথ খুঁজে না-পাওয়ার হতাশাকে সঙ্গী করে ফলাফলশূন্যতায় বিলীন হয়ে যায়। উদাহরণ ভাবা যাক: যেমন ‘সহানুভূতি’। এটা sympathy শব্দের তর্জমা। ‘সিম্প্যাথি’-র গোড়াকার অর্থ ছিল ‘দরদ’। ওটা ভাবের আমলের কথা, বুদ্ধির আমলের নয়। কিন্তু ব্যবহারকালে ইংরেজিতে ‘সিম্প্যাথি’-র মূল অর্থ আপন ধাতুগত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাই কোনো একটা প্রস্তাব সম্বন্ধেও সিম্প্যাথি-র কথা শোনা যায়। বাংলাতেও আমরা বলতে আরম্ভ করেছি ‘এই প্রস্তাবে আমার সহানুভূতি আছে’। বলা উচিত ‘সম্মতি আছে’ বা ‘আমি এর সমর্থন করি’। যা-ই হোক্—সহানুভূতি কথাটা যে বানানো কথা এবং ওটা এখনো মানান-সই হয় নি তা বেশ বোঝা যায় যখন ও শব্দটাকে বিশেষণ করবার চেষ্টা করি। ‘সিম্প্যাথেটিক্’-এর কী তর্জমা হতে পারে, ‘সহানুভৌতিক, বা ‘সহানুভূতিশীল’ বা ‘সহানুভূতিমান’ ভাষায় যেন খাপ খায় না-সেইজন্যেই আজ পর্যন্ত বাঙালি লেখক এর প্রয়োজনটাকেই এড়িয়ে গেছে। দরদের বেলায় ‘দরদী’ ব্যবহার করি, কিন্তু সহানুভূতির বেলায় লজ্জায় চুপ ক’রে যাই। অথচ সংস্কৃত ভাষায় এমন একটি শব্দ আছে, যেটা একেবারেই তথার্থক। সে হচ্ছে ‘অনুকম্পা’। ধ্বনিবিজ্ঞানে ধ্বনি ও বাদ্যযন্ত্রের তারের মধ্যে সিম্প্যাথি-র কথা শোনা যায়—যে সুরে বিশেষ কোনো তার বাঁধা, সেই সুর শব্দিত হলে সেই তারটি অনুধ্বনিত হয়। এই তো ‘অনুকম্পন’। অন্যের বেদনায় যখন আমার চিত্ত ব্যথিত হয়, তখন সেই তো ঠিক ‘অনুকম্পা’। ‘অনুকম্পায়ী’ কথাটা সংস্কৃতে আছে। ‘অনুকম্পাপ্রবণ’ শব্দটাও মন্দ শোনায় না। ‘অনুকম্পালু’ বোধ করি ভালোই চলে। তাহলে কোনটা বেশি উপযোগী: অনুকম্পা নাকি সহানুভূতি? Read the rest of this entry

প্রস্তাবিত নারীনীতি ২০১১: আমাদের ধর্মব্যবসায়ীরা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

০৬.০৪.২০১১ তারিখে প্রথম আলোতে প্রকাশিত কার্টুন

বাংলাদেশের মানুষদের নাগরিক-জীবনের ভালো জিনিসের দেখা খুব কমই পাওয়া যায়। তবে আমাদের সৌভাগ্য যে অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা দু’টি যুগান্তকারী নীতিমাল পেয়েছি যেটি সত্যিকার অর্থেই ইতিবাচক। একটি হচ্ছে শিক্ষানীতি (যদি এটি বাস্তবায়ন-সম্ভাবনা বাংলাদেশের মতো গরীব দেশের জন্য কতটুকু বস্তবসম্মত সে প্রশ্ন নিতান্ত অমূলক নয়) আর একটি হচ্ছে প্রস্তাবিত নারীনীতি ২০১১। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এ দু’টি বিষয় নিয়ে কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।  

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যারা নারীনীতি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে গলা ফাটাচ্ছেন তাঁদের অনেকেই এ নারীনীতিটি পড়ে দেখেন নি। টিভি কিছু টক শোতে আলোচকদের আলোচনা শুনে বুঝলান তাঁরা এটি না-পড়েই গলা ফাটাচ্ছেন। যেমন কয়েকদিন আগে একজন মহিলা আইনজীবি অনেক যুক্তি তর্ক দিয়ে বুঝাতে চাইলেন নারীকে কেনো উত্তারাধিকার-সম্পদের সম অধিকার দেওয়া উচিত। অথচ প্রস্তাবিত নারীনীতি ২০১১ এর কোথাও নারীকে পিতা-মাতার সম্পত্তির সমান অংশ দেওয়া কথা নেই। আর ইসলামিক আইন বাস্তবায়ন কমিঠির একজন সদস্যও নারীনীতি ঠিক কোন ধারাটি ইসলাম-বিরোধী সেটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারলেন না। অনেক টক শো শোনে এবং পত্র-পত্রিকা পড়ে যেটুকু বুঝলাম তাতে মনে হলো নীতিমালা নির্দিষ্ট করে দুটি ধারাকে ইসলাম-বিরোধী বলে বিরোধিতা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাল থেকে প্রস্তাবিত নারীনীতি নামিয়ে পুরোটা পড়লাম। বিশেষ করে যে ধারা দুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সে দুটি। ধারা দুটি হচ্ছে ২৩.৫ এবং ২৫.৩। ধারা দুটি পড়ে এর মধ্যে ইসলাম-বিরোধী কিছুই খুঁজে পেলাম না। আসুন পাঠকবৃন্দ দেখি এতে ইসলাম-বিরোধী কিছু আছে কিনা।

২৩.৫ ধারায় বলা হচ্ছে

‘‘জাতীয় অর্থনীতির সকল কর্মকান্ডে নারীর সক্রিয় ও সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ ও সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশিদারিত্ব দেয়া।’’ Read the rest of this entry