Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি 2011

কত কী লিখে যাই শুধু ভুল করে…

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

বাংলা ব্লগের লেখাগুলো পড়লে বানান ভুলের ছড়াছড়ি একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসাবে সচেতন পাঠকের চোখে ধরা দিতে বাধ্য। হাতেগোনা গুটিকয়েক ব্লগার ছাড়া বেশিরভাগ ব্লগারই ভুল বানানের লেখায় প্রতিদিন ভারী করে তুলছেন আন্তর্জালের পাতাগুলো। অথচ একটু সচেতন হলে, একটু কষ্ট করলে এ-ভুলগুলো অনেকাংশে পরিহার করা যায়।

এখানে আরেকটি বাস্তবতাকেও অস্বীকার করার উপায় নেই। নিয়মিত ব্লগারদের প্রায় সবাই তরুণ বা মধ্যবয়েসী। এ তরুণ-মধ্যবয়সে এসে ভাষা নতুন করে শেখার সুযোগ বা সময় বিবিধ ব্যস্ততার কারণে সিংহভাগ ব্লগারদেরই হয় না। তাই ব্লগের পোষ্টে ব্যাকরণের নিয়ম-কানুনের বিবিধ আলোচনার করলেও ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সেটিকে অনুসরণ করা ব্লগারদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না।

ব্লগিং করছি অনেক বছর ধরে। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি ব্লগাররা প্রায় কিছু সাধারণ ভুল করেন যেগুলো শুদ্ধ ব্যবহার মনে রাখা খুবই সহজ। যেহেতু অনেক ব্লগারই এ কয়েকটি বিশেষ ভুল বারবার করছেন সেহেতু এ ভুলগুলোর উপর একটু আলোকপাত করা গেলে মনে হয় অনেক ব্লগারের উপকারে আসবে এবং ভবিষ্যতে একই ভুলগুলো যাতে না-হয় সে ব্যাপারে সজাগ হতে পারবেন। সে কারণেই আজকের এ ছোট পোষ্টের অবতারণা। এখানে ব্যাকরণের কঠিন নিয়ম-কানুনের এড়িয়ে কিছু সহজ বিষয় সহজভাবে আলোচনার চেষ্টা করব যাতে করে পাঠকেরা খুব সহজেই মনে রাখতে পারেন।

বাংলা ভাষা লেখার একটি আলাদা সমস্যা আছে যেটি সম্ভবত বিশ্বের আর কোন ভাষায় নেই। সমস্যার জায়গা এই; বাক্যে যে-শব্দগুলো যেখানে বসার সেখানেই বসল, কিন্তু কখনো কখনো দু’টি শব্দ ফাঁক-ফাঁক না-বসে একেবারে গায়ে গা লাগিয়ে বসে; আবার কখনো আলাদা বসে। এ ব্যাপারটি অনেক অনেক বড়ো বড়ো কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষকেরাও খেয়াল করেন না বা এ ব্যাপারে তাঁরা আদৌ অবগত নন। কিন্তু আপত সামান্য ব্যাপারটি যে অর্থে কী পরিমাণ তারতম্য ঘটাতে পারে সেটি অনুভব করলে এটিকে উপেক্ষা করার স্পর্ধা কখনোই কারো হবে না।  Read the rest of this entry

জীবনের প্রথম প্রেমপত্র

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

ছবি: নিষাদ

“তোমাকে চেয়েছিলাম যখন অনেক জন্ম আগে

তথাগত তার নিঃসঙ্গতা দিলেন অস্তরাগে

তারই করুণায় ভিখারিনী তুমি হয়েছিলে একা একা

আমিও কাঙাল হলাম আরেক কাঙালের পেতে দেখা

নতজানু হয়ে ছিলাম তখন এখনো যেমন আছি

মাধুকরী হও নয়ন-মোহিনী স্বপ্নের কাছাকাছি।”

৩-৪ বছর আগের কথা। তখন আমার ১৮ বছর বয়েস। কলেজ-সিঁড়ির শেষ ধাপ পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব-যাব করছি। সারা চোখে কৈশোরের স্বপন-অঞ্জন, সারা মনে কৃষ্ণচূড়া রঙ্গের হাজারো স্বপ্নের কোলাহল। তখনি ভোরের সূর্যের মত এক জাক সোনালী রোদ্দুর নিয়ে আমার এই ১৮ বছরের মনোকাশে উদিত হল একটি চঞ্চল কিশোরীর অস্তিত্ব। সেই আলোর মিছিলে ভরে গেল আমার কৈশোরের উঠান। অবচেতনভাবেই বুকের মধ্যে জেগে উঠে এক নতুন নির্জন দ্বীপ – যার নাম ভালোবাসা। যে তীব্র আলোয় আমার জগৎ আলোকিত, তার ঝলকানি তখনো সেই কিশোরীর মন-মন্দিরে লাগেনি। লাগেনি মানে লাগতে দিইনি। ভালোলাগার যন্ত্রণাই বলুন আর সুখই বলুন সব একাই বয়ে বেড়িয়েছি – তাকে কখনো বুঝতে দিইনি। তারপরে যথারীতি একদিন ভারটা অসহ্য হয়ে সিন্দাবাদের ভূতের মত ঘাড়ে বসার উপক্রম করছে দেখে অনন্যোপায় হয়ে ঠিক করলাম তাকে জানব সব। না হলে যে বাকি জীবন আমার “আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যকুল শুধাইল না কেহ” গাইতে গাইতে দিন যাবে। সে না শুধাক দায়টা যখন আমার তখন আমাকেই স্বপ্রনোদীত হয়ে বলতে হবে। লিখে ফেললাম একটা কিশোর হৃদয়ের আবেগ-মথিত চিঠি । কিন্তু সঙ্কোচের উঁচু দেয়ালটা টপকিয়ে তাকে চিঠিটি দেওয়া হয়নি কোনদিন। আমার বুকের নির্জন দ্বীপের নির্জনতার মাঝেই ভীরু পায়রার মতই উড়াউড়ি করেই গেছে তার দিন। Read the rest of this entry

প্রিয় মানুষটিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

জালাল স্যারের সাথে আমার পরিচয় ব্লগিং-এর সূত্র ধরে। যারা প্রথম আলোতে নিয়মিত ব্লগিং করেনতাঁদের হয়তো মনে আছে সেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে আমার একটি লেখা সে সময় খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। এ লেখাটি লিখতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আবার নতুন করে অনেক পড়তে হয়েছে; অনেক তথ্য উপাত্ত নতুন করে সংগ্রহ করতে হয়েছে। সে সময় মাহবুবুর রহমান জালাল নামটির সাথে আমার পরিচয় হয়। মুক্তিযুদ্ধের দলিলগুলো তিনি যেভাবে পরম মমতায় আগলে রেখেছেন তা ভেবে সে নামটির প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় ভরে উঠে আমার মন। লেখাটির সিংহভাগ তথ্য-উপাত্ত জালাল স্যারের দলিলগুলো থেকে নেওয়া। লেখাটি প্রকাশ করার পর একদিন হঠাত্‌ করে উনার মেইল পেলাম। উনার মতো এমন একজন নাম করা মানুষ স্বপ্রণোদীত হয়ে আমাকে মেইল করেছেন বিষয়টি কেমন যেন স্বপ্নের মতো মনে হল। সেই শুরু। এর পর থেকে উনি সময়ে অসময়ে অনেকবার মেইল করেছেন, অনেক উপদেশ-পরামর্শ দিয়েছেন। আমি যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ইতিহাসের উপর যে কয়েকটি লেখা লিখেছি তাঁর অনুপ্রেরণার সবচেয়ে বড়ো উত্‌স ছিলেন জালাল স্যার। Read the rest of this entry